শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রমের বিকল্প নেই। বিশেষ করে দিনের বেলায় হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো কিংবা বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় অংশ নেওয়া শরীর ও মনের জন্য বেশ উপকারী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড হৃদ্স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রথম উপকার—শরীর ও হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
নিয়মিত খেলাধুলা শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত শারীরিক কর্মকাণ্ড হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এটি সহায়ক।
দ্বিতীয় উপকার—মন ভালো রাখে এবং ঘুমে সহায়তা করে।
খেলাধুলা বা ব্যায়াম শুধু শরীরের জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গ কমাতে এবং মেজাজ ও সামগ্রিক সুস্থতা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। দিনের বেলায় শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে রাতে সহজে ঘুমিয়ে পড়তেও সুবিধা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, দীর্ঘ সময় একটানা বসে না থেকে দিনের মধ্যে নিয়মিত শরীরকে সক্রিয় রাখা। হাঁটা, খেলাধুলা, সাইক্লিং, সাঁতার কিংবা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়াম—সবই শারীরিক কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে।
WHO-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০–৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ড অথবা ৭৫–১৫০ মিনিট বেশি তীব্রতার কর্মকাণ্ড করার পরামর্শ দেওয়া হয়। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে দৈনিক গড়ে প্রায় ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে বেশি মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ডের পরামর্শ রয়েছে।
তাই শুধু শরীরচর্চার জন্য নয়, সুস্থ জীবনযাপনের অংশ হিসেবেও নিয়মিত খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী উপযুক্ত খেলাধুলা বেছে নিয়ে নিয়মিত সক্রিয় থাকলেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব।